Best health benefits of eating curry leaves, curry leaf in Bengali – কারি পাতা খাওয়ার শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্য উপকারিতা, কারি পাতা

কারি পাতা ভারতের রন্ধন রেসিপির একটি অপরিহার্য উপাদান হিসাবে অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ ভারতের মানুষের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু, আজকাল এই বিস্ময়কর গন্ধযুক্ত পাতা ভারতের বিভিন্ন অংশে ব্যবহার করা হয়। একবার এটি সবজির তরকারিতে যোগ করা হলে মানুষ একটি স্বতন্ত্র সুবাস পায়। খুব তাজা পাতার রং হালকা সবুজ হয় এবং যখন রেসিপিতে এটি যোগ করা হয় তখন পূর্ণবিকশিতহয়ে আরো বেশী গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠে। আপনি একে গুঁড়াও করতে পারেন এবং একটি সুন্দর সুবাস পেতে এটি স্যালাডে যোগ করুন। ক্ষুদ্রান্ত্রের উন্নত ক্রিয়ার থেকে শুরু করে ক্যান্সার দূর করতে কারি পাতার বিভিন্নভাবে সাহায্য করে।

কারি পাতা অত্যন্ত দীর্ঘ সময় থেকে ভারতে ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারী পাতার গাছের উৎস হল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এই কারি পাতা ব্যাপকভাবে ভারতীয় ডিশ, তরকারি, স্টু, শিম জাতীয় খাবার ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। এটি একটি মাঝারি উদ্ভিদ যা সাধারণত ৩-৮ মিটার উচ্চতার হয়ে থাকে। ভারতীয় বাড়িগুলোর অধিকাংশই তাদের বাড়িতে এই গাছ লাগিয়ে থাকেন। কারি পাতার স্বাদ তিক্ত এবং খুব সুগন্ধি হয়। এতে উপকার আছে বলে এই পাতাগুলি খাবার থেকে ফেলে দেওয়া হয় না। কারি পাতায় অনেক স্বাস্থ্যের উপকারিতা আছে। তাদের কিছু কিছু নিচে উল্লেখ করা হল।

কারি পাতার সর্বোত্তম স্বাস্থ্য উপকারিতা (Best health benefits of the curry leaves)

কিডনি সমস্যার সমাধান (Solution for kidney problem)

পেটে ব্যথা কিডনির সমস্যার পিছনে অন্যতম কারণ হতে পারে। কিডনি সমস্যার জন্য মানুষকে একটি উন্নত পর্যায়ের ডায়ালিসিস করানো প্রয়োজন। কিন্তু, কারি কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই কিডনির সমস্যা সমাধানে সত্যিই ভাল কাজ করে। আপনার পরিবারে যদি কিডনি সমস্যা থাকে, তাহলে প্রথম দিন থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। এই সমস্যা থেকে দূর করতে আপনার খাদ্যে পর্যাপ্তরূপে আপনার কারি পাতা খাওয়া উচিত।

পিত্ত নিয়ন্ত্রণ (Controlling bile)

যেহেতু পাতা বাদেও কারি উদ্ভিদ একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন, এর অন্যান্য অংশেও কিছু খুব কার্যকর ভেষজ বৈশিষ্ট্য আছে। কারি গাছের বাকল বদহজম, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য পেটের সমস্যার থেকে ত্রাণ পেতে সাহায্য করে। আপনি যদি পিত্তজনিত বমিতে ভুগে থাকেন, তাহলে কারি পাতা আপনার জন্য একটি বিস্ময়কর প্রতিকার হতে পারে। আপনি গরম জলে কিছু কারি পাতা ও বাকল ডুবিয়ে কিছু সময়ের জন্য রেখে দিন। এক ঘণ্টা পর, বাকল ও পাতা বের করে সেই জল পান করলে আপনি পিত্তবমি থেকে সমাধান পেতে পারেন।

গর্ভাবস্থাকালীন সমস্যা (Problems in pregnancy)

গর্ভাবস্থা প্রত্যেক মহিলার জীবন পর্যায়ে আসা এমন একটি অবস্থা যখন সে তার শিশুর পাশাপাশি নিজেকে যত্ন নিয়ে থাকে। কিন্তু, এই সময়, গর্ভবতী মহিলা অনেক ধরণের অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। অনেক গর্ভবতী মহিলা সকালের দিকে অসুস্থতা, বমি প্রবণতা ইত্যাদি অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। গর্ভাবস্থার পরে নারী শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের পিছনে এই বমি-বমি ভাব দায়ী। আপনি কারি পাতা সেদ্ধ করা জল পান করতে পারেন, অস্বস্তি স্তর এবং সকালে অসুস্থতা কমানোর জন্য গর্ভবতী নারীদের পক্ষে এটি সত্যিই কার্যকর হতে পারে।

চুলের যত্ন (Hair care)

আপনি যদি বিভিন্ন ধরণের চুলের সমস্যায় ভুগে থাকেন যেমন চুল পড়া এবং খুশকি, কারি পাতা এক কার্যকর প্রতিকার হতে পারে। এছাড়াও আপনি আপনার চুল বৃদ্ধি করতে কারি পাতা ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য, আপনি একটি পাত্রে ফোটানো জল নিন এবং তাতে কারি পাতা, পুদিনা পাতা, গোলাপ ফুল ও নারকেল তেল যোগ করুন। সবগুলিকে একসাথে ফোটান এবং ঠাণ্ডা করতে কিছু সময়ের জন্য এটি রেখে দিন। এখন আপনার মাথার খুলি উপর এই দ্রবণটি প্রয়োগ করুন এবং ধীরে ধীরে আপনার চুলে লাগাতে থাকুন। আপনি আপনার চুলের উপর আধা ঘন্টার জন্য এটি রেখে দিন এবং আপনার চুল দ্রুত বৃদ্ধি করতে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন।

কিছু লোকের অকালে চুল পাকার একটি বড় সমস্যা আছে। এমনকি কিশোর বয়সের মানুষও অকালে চুলের সমস্যায় ভুগছেন। এই জন্য আপনি নিম্নলিখিত প্রক্রিয়া মেনে চলতে পারেন :

  • কারি পাতা চুলের রঙের উন্নতিতে সাহায্য করে। চুলের তেলে কয়েকটি কারি পাতা যোগ করুন তারপর তেল ফুটিয়ে নিন এবং মাথার খুলির উপর এটি লাগান। এটি চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে।
  • কারি পাতা চুলের অকালপক্বতা প্রতিরোধ করে।
  • কারি পাতা চুলের যত্নের জন্য ভাল কাজ করে। খাবার থেকে ফেলে না দিয়ে পাতাগুলি নিয়ে নিন। নয়তো সকালে প্রাতরাশে ক্যারি পাতার পাউডার খেতে পারেন।
  • কারি পাতা দৃষ্টিশক্তি উন্নতিতে সহায়ক হয়। তারা চোখের ছানি প্রতিরোধ করতে পারে।
  • কারি পাতা বদহজম এবং বমি বমি ভাবের প্রতিকার করে। কারি পাতা থেকে রস বের করে নিন এবং এটি তাজা লেবুর রস এবং চিনির সঙ্গে মিশ্রিত করুন। এটা বমি বমি ভাব এবং বদহজম চিকিৎসার জন্য সাহায্য করে।
  • কারি পাতা ডায়রিয়ার জন্য ভাল প্রতিকার। কারি পাতায় কার্বজোল আলকালয়েড থাকে যা ডায়রিয়ার চিকিৎসায় প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। ডায়রিয়ার চিকিৎসা করতে, কারি পাতা নিন এবং সরাসরি এর পেস্ট বা রস তৈরি করুন।
  • আপনার চুলের অকালপক্বতা এড়ানোর জন্য নিয়মিতভাবে আপনার মাথার খুলির উপর এই তেল প্রয়োগ করুন।
  • তেল ঠান্ডা হতে দিন এবং তারপর একটি পাত্রে এটি স্থানান্তরিত করুন।
  • এখন তেলকে সম্পূর্ণরূপে তাপ থেকে অপসারিত করুন।
  • তেলে কারি পাতা ভাজুন যতক্ষণ না পর্যন্ত সুবর্ণ বাদামী রং হয়।
  • এখন এতে কিছু কারি পাতা যোগ করুন।
  • একটি প্যানে তেল গরম করুন। আপনি নারকেল তেল, বাদাম বা জলপাই তেল ফুটিয়ে নিতে পারেন।
  • এগুলি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং আপনার শরীরকে চর্বিমুক্ত করতে সাহায্য করে।
  • কারি পাতা কেমোথেরাপি এবং বিকিরণ থেরাপির জন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সাহায্য করে।
  • এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো খাবার। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাতরাশে কারি পাতার পাউডার ব্যবহার করা ভালো।
  • কারি পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং আলকালয়েড রয়েছে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীর পক্ষে এবং পাচনতন্ত্র উন্নত করার ক্ষেত্রে এটি বেশ ভাল।

সুতারং আপনার খাদ্যতালিকা থেকে এই স্বাস্থকর পাতা বাদ দেবেন না। আপনি যদি খাদ্যতালিকা থেকে এই পাতা বাদ দেন, তাহলে আপনি শুধু কারি পাতাই বাদ দিচ্ছেন তা নয়, আপনার পক্ষ থেকে শরীরকেও বাদ দিচ্ছেন।

loading...