Hair rebonding tips for before and after rebonding hair in Bengali – চুল রিবন্ডিং এর কিছু পরামর্শ ; রিবন্ডিং করার আগে এবং পরে

নারী ,হস্ত অথবা যন্ত্রের সাহায্যে সুন্দর চুলের শৈলী কামনা করে। কিন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং অঙ্গরাগের প্রভাবে , চুল ফেটে যায়। কিছু নারী তার চুলকে অগোছালো থেকে সুন্দর করার জন্য রিবন্ডিং করে থাকেন। কিন্ত যদি ঠিক থাকে করে রিবন্ডিং করা না হয় তাহলে চুল আরো শুষ্ক আর অগোছালো হয়ে যেতে পারে। একসময় নারীরা মোটা গোছের চুল পছন্দ করতেন। কিন্তু এখন অনেক নারী পাতলা চুল পছন্দ করে। এখন অনেক চুল বন্ধনের উপায় বেরিয়ে গাছে।

চুল রিবন্ডিং কোঁকড়া চুল সোজা করার একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এটি সেই সব নারীদের খুব পছন্দের যাদের চুল মোটা এবং কোঁকড়ানো আর সামলানো কঠিন । এই প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক প্রয়োগ করে চুলে ভেতরের স্তর সোজা করা হয়। নিরাপদ চুল রিবন্ডিং সেলুনের দক্ষ ব্যাক্তির হাতেই করা উচিত।

সাময়িক দিনে চুল রিবন্ডিং একটি প্রয়োজনীয় কাজ যেখানে চুল শৈলী শিল্পীরা নিজের দক্ষতা পরিদর্শন করতে পারে।

কিছু পদ্ধতিতে অনেক উন্নত বৈশিষ্ট আছে। এখন কিছু প্রথাগত রিবন্ডিং প্রক্রিয়া দেখা যাক। এই র্পবন্ধটিতে চুল রিবন্ডিংএর আগে এবং পরের কিছু কার্যকর পদ্ধতির বর্ণনা পাওয়া যায়। এখন চুল রিবন্ডিং এর আগে ও পরের কিছু টিপ্পনি দেখা যাক।

চুল রিবন্ডিং পদ্ধতি (Process for hair rebonding)

নারীদের বিভিন্ন ধরণের চুল দেখা যায় ঢেউ খেলানো ,কোঁকড়ানো অথবা সোজা এর কারণ হলো প্রোটিনের অন্তরানবিক বন্ধন। রিবন্ডিং হলো এই বন্ধনগুলি পাল্টানোর প্রক্রিয়া। চুল রিবন্ডিংয়ে দুই ধরণের রাসায়নিক ব্যবহার হয়।

  • এক ধরণের ক্রিম সফটনার বা রিলাক্সেন্ট প্রথমে লাগানো হয় চুলের এই বন্ধনকে মুক্ত করার জন্য।
  • তার পর এক ধরণের নিউট্রালাইজার প্রয়োগ করাহয় এই বন্ধন কে সোজা করার জন্য।

রিবন্ডিংয়ের ধাপ (Steps of rebonding)

  • মৃদু শ্যাম্পু দিয়া চুল পরিষ্কার।
  • চুলের গোড়ার থেকে কিছু মিলিমিটার উপরে সফটনার বা রিলাক্সেন্ট প্রয়োগ করে ত্রিশ মিনিট রাখা। তার পর স্টিম আয়রন দিয়া বন্ধন গুলি মুক্ত করা। তার পরের ধাপ হলো ক্রিম ধুয়ে ফেলে দেওয়া।
  • এরপর চুল কিছু ভাগে বিভক্ত করে সোজা করা।
  • নিউট্রালাইজার দিয়া চুলএর বন্ধন গুলি আবার নতুন ভাবে সজ্জিত করা।
  • এর পর নিউট্রালাইজার ধুয়ে চুল সুকীয়া নেওয়া।

এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি করতে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা সময় লাগে। যদি সঠিক পরিচর্যা নেওয়া হয় তাহলে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ কিন্ত কারো কারো রাসায়নিক এএলার্জি থাকে। তাই রিবন্ডিংয়ের আগে পরীক্ষা করে নেওয়া বাঞ্চনীয়।

চুল বন্ধনের কিছু টিপ্পনি (Hair bonding tips)

রিবন্ডিংয়ের পরে চুল না ভেজানো (Do not wet after rebonding)

রিবন্ডিং প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর। চুল যাতে না ভেজে সেই বাপের খুব সাবধান থাকতে হবে। অন্ত তিন দিন চুল না ভেজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এই তিন দিনে রাসায়নিক চুলের গভীরে প্রবেশ করে বন্ধনকে আরো বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী করে। সামাজিক আচার অনুষ্ঠান এরিয়া চলতে হবে যেখানে চুল ভেজার ভয় থাকে।

চুল না বাধা (Do not tie)

চুল রিবন্ডিংয়ের পর না ভেজানো ছাড়া আরেকটি গুরত্তপূর্ণ তথ্য হলো চুল না বাধা। তিন দিন পর্যন্ত চুল খোলা রাখতে হবে। এমনকি কানের পাশে চুল আটকানো চলবে না।

ঘুমাবার পদ্ধতি (Procedure of sleeping)

এই তিন দিন ঘুমানোর সময় খুব সচেতন থাকতে হবে। সবার সময় চুল বিছানার উপর মেলে মাটির দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে। চুল যাতে বিছানায় ফেঁসে না থাকে সেই দিকে নজর রাখতে হবে।

শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার (Shampoo and conditioner)

তিন দিন পর থেকে নামি ব্রানডার ভালো শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার যাতে একই কোম্পানির হয়। পাঁচ মিনিট ধরে চুলের যোগ পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। এর পর চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে যাতে র কোনো অবশেষ লেগে না থাকে।

সপ্তাহে একবার চুল কন্ডিশন (Condition your hair once in a week)

রিবন্ডিং করার পর চুল সপ্তাহে একদিন কন্ডিশন করতে হবে। উজ্জ্বল চুল পেতে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক লাগিয়ে কিছু সময় রাখাটা জরুরি। কন্ডিশনার এবং মাস্ক চুলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এগুলি চুলের পুরোনো জেল্লা ফেরায়।

বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহার না করা (No electric instrument)

বৈদ্যুতিক যন্ত্র দিয়া চুল শুকানো ভালো নয়। ঠান্ডা কিছু দিয়া চুল শুকানো উচিত। সূর্যের টেপে চুল শুকানো যেতে পারে। চুল যাতে কোমল থাকে তার জন্য কম বার চিরুনি ব্যবহার করতে হবে। বেশি চুল নাড়াচাড়া করলে চুলে তন্ পড়তে পারে।

রিবন্ডিংয়ের পরে চুলের যত্ন (Hair care tips before and after rebonding hair)

রিবন্ডিং এর সময় রাসায়নিক ব্যবহার চুলের প্রাকৃতিক আকারকে প্রভাবিত করে। রিবন্ডিংয়ের পরে চুল ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে যত্ন দরকার।

  • রাসায়নিক চুলের ভেতরে প্রবেশ করতে কিছু সময় দরকার। তাই চুল সোজা করার তিন দিন জল ব্যবহার করা যাবে না।
  • চুল বাধা বা কানের পশে আটকানো যাবে না।
  • চুল সোজা করে ঘুমাতে হবে।
  • তিন দিন পর চুলে ঠান্ডা জলে দিয়া শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। গরম জল ব্যবহার করা যাবে না কারণ এতে মাথার চামড়া শুষ্ক হয়।
  • হেয়ার ড্রায়ার বা অন্য কোনো গরম জিনিস ব্যবহার করা যাবে না।
  • রিবন্ডিংয়ের ছয় মাসের মধ্যে চুলের শৈলী পরিবর্তন করা চলবে না।
  • রিবন্ডিংয়ের পরে তিন মাস কোনো রকম রং , হাইলাইট করা চলবে না।
  • রিবন্ডিংয়ের আগে চুল কেটে নেওয়া ভালো। মাথা ভাঙা চুল ঠেকাতে চুল নিয়মিত ট্রিম করতে হবে।
  • চুলের জট ছড়াতে মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করতে হবে।
  • নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হৰে যাতে চুল চিটচিটে না হয়ে যায়।
  • চুল সমসময় ছাতা অথবা টুপি দিয়া সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ,বৃষ্টি ,ঠান্ডা বাতাস থেকে আড়াল করতে হবে।
  • চুলে সিরাম মাখতে হবে যা চুলকে প্রাকৃতিক বিপত্তি থেকে রক্ষা করবে।
  • চুলকে সঠিক আদ্রতা আর পুষ্টি দেওয়ার জন্য হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যা ফল ,সবজি এবং প্রোটিন থাকে। ভাজা তৈলাক্ত খাবার এরিয়া চলতে হবে যা চুলের ক্ষতি করে। বাদাম,কাজু বাদাম,কাঠ বাদাম চুলে পুষ্টি পড়পদান করে।

চুল রিবন্ডিংয়ের সুবিধা এবং অসুবিধা (Advantages and disadvantages of rebonding hair)

রিবন্ডিং চুলকে কোমল মসৃন ও সোজা করে। ইহা চুলকে মসৃন ও পাতলা আকার প্রদান করে তাতে চুল সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

চুলের রিবন্ডিং বা সোজা করা ছ মাস পর্যন্ত থাকে। গোড়া থেকে চুল কুঁকড়ে যেতে থাকলে আবার তা ঠিক করা যায়।

রিবন্ডিং রাসায়নিক ব্যাবহার করে করা হয় যা চুলকে স্পর্শকাতর ও ভঙ্গুর করে তোলে। চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পরে আর চুল পড়া শুরু হয়। রিবন্ডিং করা চুল সব সময় আলতো ভাবে খোলা রাখতে হবে ,কখনোই তা বাধা চলবে না। বিভিন্ন চুলের শৈলী এই অবস্থায় সম্ভব নয়। রিবন্ডিং প্রক্রিয়া বার বার করলে চুল ততো দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। বৃষ্টির জলে লবন থকাৰ জন্য চুলকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। রিবন্ডিংয়ের পরে চুল শুষ্ক এবং মোটা হয়ে পরে। নিয়মিত কন্ডিশনিং চুলকে সুস্থ রাখে।

চুল রিবন্ডিংয়ের আগে ও পরের টোটকা (Hair rebonding tips for before and after rebonding hair)

এলাৰ্জি পরীক্ষা (Allergy test)

চুল রিবন্ডিং প্রক্রিয়া ত্বক এবং মাথার চামড়ায় কুপ্রভাব ফেলে। রিবন্ডিংয়ে ব্যাবহৃত সামগ্রী সবার ত্বককে সহ্য নাও হতে পারে। তাই রিবন্ডিংয়ের আগে এলার্জি পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার।

‘হেয়ার রিবন্ডিং ক্রিমের ‘ ব্যবহার (Application of hair rebonding cream)

এই প্রক্রিয়ায় হেয়ার রিবন্ডিং ক্রিম একান্ত আবশ্যকীয় কারণ এটাই চুলকে নতুন করে সুসজ্জিত করে। এটা অবশ্যই দেখতে হবে যাতে এই ক্রিম চুলের গোড়ায় না লাগে। কারণ ইটা চুলের গোড়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

রিবন্ডিংয়ের পর চুলের যত্ন (Care after rebonding)

চুল রিবন্ডিং করা পরের ধাপ হলো চুলের যত্ন। সাধারণত আমরা আমাদের প্রাকৃতিক চুলের যত্নের সময় পাই না। এতে চুল পড়া,শুষ্ক চুল,চুল ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। রিবন্ডিং করার পর অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া চুলের পক্ষে একান্ত আবশ্যক। এক কোথায় রিবন্ডিং করা চুলের বেশি যত্ন প্রয়োজন।

চুল না বাধা (No tiding hair)

চুল রিবন্ডিংয়ের পর চুল বাধার কোনো উপায় নেই। চুল একবার রিবন্ডিং প্রক্রিয়া গ্রহণ করে নিলে খুব সতর্ক থাকতে হবে। চুল কখনোই বাধা চলবে না। এই পর্যায় এসে চুল প্রকৃত আকৃতি লাভ করে।

loading...